ওঁ
শ্রীমন্নারায়ণায় নমঃ
শ্রীবিষ্ণুপুরাণ
প্রথম অংশ
নারায়ণং নমষ্কৃত্য নরং চৈব নরোত্তমম্।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।।
প্রথম অধ্যায়
শ্রীসূত বললেন-শ্রীমৈত্রেয় নিত্যকর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়ে মুনিবর শ্রীপরাশরকে প্রণাম করে তাঁর চরণ স্পর্শ করে জিজ্ঞাসা করলেন।। ১।। 'হে গুরুদেব! আমি আপনার নিকট থেকেই বেদ, বেদাঙ্গ এবং সকল ধর্মশাস্ত্র ক্রমশ অধ্যয়ন করেছি।। ২।। হে মুনিশ্রেষ্ঠ! আপনার কৃপাতেই আমার বিপক্ষীয়গণ আমাকে একথা বলতে পারেন না যে, "আমি সমস্ত শাস্ত্র আয়ত্ত করতে পরিশ্রম করিনি”।। ৩।। হে ধর্মজ্ঞ! হে মহাভাগ! এখন আমি আপনার শ্রীমুখ থেকে শুনতে ইচ্ছা করি যে এই জগৎ কীভাবে উৎপন্ন হয়েছে এবং পরবর্তীকালে (অন্য কল্পের আরম্ভে) ও কেমনভাবে হবে?।। ৪।। এবং হেব্রহ্মন্! এই জগতের উপাদান-কারণ কী? এই সমগ্র জগৎ-চরাচর কীসের থেকে উৎপন্ন হয়েছে? এটি আগে কীসে লীন হয়েছিল এবং পরেও কীসে লীন হয়ে যাবে? ॥ ৫॥ এছাড়াও (আকাশ ইত্যাদি) ভূতেদের পরিমাণ, সমুদ্র, পর্বত এবং দেবতা ইত্যাদির উৎপত্তি, পৃথিবীর অধিষ্ঠান এবং সূর্য ইত্যাদির পরিমাণ ও তার আধার, দেবতাদির বংশ, মনু, মন্বন্তর (যা বারংবার আসে) চার যুগের বিভক্ত কল্প এবং কল্পাদির বিভাগ, প্রলয়ের স্বরূপ, যুগে যুগে পৃথক-পৃথক সমস্ত ধর্ম, দেবর্ষি ও রাজর্ষিদের চরিত্র,
শ্রীব্যাসদেব-কৃত বৈদিক শাখাসমূহের যথাযথ রচনা এবং। ব্রাহ্মণ ইত্যাদির বর্ণ ও ব্রহ্মার্ণ ইত্যাদির আশ্রম-ধর্ম-হে মহামুনি শক্তিনন্দন।- এই সব আমি আপনার থেকে শুনতে ইচ্ছা করি।। ৬-১০ ।। হেরক্ষন! আমার প্রতি সদয় হোন, যাতে হে মহামুনিবর। আপনার কৃপাতে আমি এসব জানতে পারি'।। ১১ ।।
শ্রীপরাশর বললেন-'হে ধর্মজ্ঞ মৈত্রেয়! আমার পিতার পিতা শ্রীবশিষ্ঠদেব যে বর্ণনা করেছিলেন, তার আগের প্রসঙ্গ তুমি আমাকে ভালো করে স্মরণ করিয়েছ (তার জন্য তুমি ধন্যবাদের পাত্র)।। ১২।। হে মৈত্রেয়। আমি যখন জানতে পারি যে বিশ্বামিত্রের প্রেরণায় আমার পিতাকে রাক্ষস খেয়ে নিয়েছিল, তখন আমার অত্যন্ত ক্রোধ হযেছিল।। ১৩।। তখন রাক্ষসদের ধ্বংস করার জন্য আমি যজ্ঞ করতে আরম্ভ করি। সেই যজ্ঞে শত শত রাক্ষস পুড়ে মারা গিয়েছিল।। ১৪।। এইভাবে রাক্ষসদের সর্বভাবে বিনাশ হতে দেখে আমার মহাভাগ। পিতাময় শ্রীবশিষ্ঠদেব আমাকে বলেন।। ১৫।। "হে বৎস। অতি ক্রোধ ভালো নয়, এবার শান্ত হও। রাক্ষসদের কোনো অপরাধ নেই, তোমার পিতার এটিই হওয়ার হিল। ।। ১৬।। মুর্খদেরই ক্রোধ হয়, বুদ্ধি বিচারকারীদের রাগ হবে কেন? পুত্র! কে কাকে মারতে পারে? পুরুষ নিজেই তার কর্মফল ভোগ করে। ১৭।। হে প্রিয়বর! এই ক্রোধ মানুষের অত্যন্ত কষ্ট দ্বারা সঞ্চিত যশ ও তপের প্রবল বিনাশক হয়ে থাকে।। ১৮।। হে তাত। ইহলোক ও পরলোক ধ্বংসকারী এই ক্রোধকে মহর্ষিগণ সর্বদা পরিত্যাগ করেন, সুতরাং তুমি এর বশীভূত হোয়ে নাঃ ১৯। এখন এই হতভাগ্য নিরপরাধ রাক্ষসদের দগ্ধ করায় কোনো লাভ নেই: তোমার এই যজ্ঞ সমাপ্ত করো সাধুদের ধন হল সর্বদা ক্ষমা করা"।। ২০॥
মহাত্মা পিতামহ এইভাবে বোঝালে আমি তাঁর বক্তব্যের গুরুত্ব বিচার করে সেই যজ্ঞ সমাপ্ত করি। ২১। মুনিশ্রেষ্ঠ ভগবান বশিষ্ঠ তাতে অত্যন্ত প্রসন্ন হন। সেই সময় শ্রীব্রহ্মার পুত্র শ্রীপুলস্ত্য সেখানে উপস্থিত হন ॥ ২২। হে মৈত্রেয়! পিতামহ বশিষ্ঠ তাঁকে অর্ঘ্য প্রদান করেন, তখন মহর্ষি পুলহের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মহাভাগ পুলস্ত্য আসন গ্রহণ করে আমাকে বললেন।। ২৩।।
শ্রীপুলস্ত্য বললেন-'তোমার হৃদয়ে অত্যন্ত বৈরীভাব থাকা সত্ত্বেও নিজ বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধ শ্রীবশিষ্ঠদেবের কথায় তুমি ক্ষমা স্বীকার করে নিয়েছ, তাই তুমি সম্পূর্ণ শাস্ত্রের জ্ঞাতা হবে।। ২৪।। হে মহাভাগ! অত্যন্ত ক্রুধ হয়েও তুমি আমার সন্তানদের সর্বতোভাবে বিনাশ করোনি; অতএব আমি তোমাকে এক উত্তম বর প্রদান করছি।। ২৫।। হে বৎস! তুমি পুরাণ সংহিতার প্রবক্তা হবে এবং দেবতাদের প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারবে।। ২৬।। আর আমার আশীর্বাদে তোমার নির্মল বুদ্ধি প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি (ভোগ ও মোক্ষ) উৎপন্নকারী কর্মে নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠিত হবে।। ২৭।। (পুলস্ত্যদেব এরূপ বলার পর) আমার পিতামহ ভগবান বশিষ্ঠ তখন বললেন “শ্রীপুলস্ত্যদেব যা বলেছেন, তা সবই সত্য হবে"।। ২৮৷৷
'হে মৈত্রেয়! পূর্বকালে বুদ্ধিমান বশিষ্ঠদেব এবং পুলস্তাদের যা বলেছেন, তোমার প্রশ্নে তা সব আমার স্মরণ হয়েছে। ২৯। তাই হে মৈত্রেয়! তোমার জিজ্ঞাসায় আমি সেই সম্পূর্ণ পুরাণ সংহিতা তোমাকে শোনাচ্ছি; তুমি ভালোভাবে মন দিয়ে তা শোনো। ৩০। এই জগৎ শ্রীবিষ্ণু থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তাঁতেই স্থিত, তিনিই এই জগতের স্থিতি ও লয়ের কর্তা এবং এই জগৎ-ও তিনিই'।। ৩১।।
ইতি শ্রীবিষ্ণুপুরাণে প্রথমেংহশে প্রথমোহধ্যায়ঃ।। ১ ।।
শ্রীবিষ্ণুপুরাণের প্রথম অংশের প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত ৷৷ ১৷৷
এই বঙ্গানুবাদ ও ধর্মীয় তথ্যাদি সংগৃহীত হয়েছে পবিত্র গ্রন্থ “শ্রীবিষ্ণুপুরাণ” থেকে।
উৎস: Gita Press, Gorakhpur
[SINCE 1923]
Post a Comment